
কেন এত স্বর্ণ কিনছে চীন?
শিমুল হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৬

ব্যয়ের চাপে ছোট হচ্ছে ভোক্তাদের বাজারের তালিকা। ছবি: সময় সংবাদ
সারাদিনের পরিশ্রমে ঘামে ভিজে যায় শরীর। সেই শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিকেই চলে সংসার শ্রমজীবী মানুষের। কিন্তু দিন শেষে যা আয় হয়, তাতে মাসের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়তি ব্যয়ের চাপে সংসারের মাসিক বাজারের তালিকাও ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আলু, বেগুন, তেলসহ সব ধরনের তরকারির দাম বেশি। সংসার চলে না, খুব কষ্টে চলতে হচ্ছে। বাড়তি কোনো আয় নেই। যে টাকা পাই, তা দিয়েই চলতে হয়। শ্রম অনুযায়ী যে বেতন পাওয়ার কথা, তা পাই না। সব জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে অনুযায়ী আমাদের মজুরি বাড়েনি।’
বিবিএসের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, আয় বৃদ্ধির গতি পণ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় এখনো ০.৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
আয় বাড়ার তুলনায় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যও আগের তুলনায় কম কিনতে বাধ্য হন তারা। এর প্রভাব পড়ছে বাজারের বেচাকেনায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যেসব ক্রেতা ৫০০ টাকার পণ্য কিনতেন, এখন তারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকার পণ্য কিনছেন।
বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় শুধু পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেই হবে না; মূল্যস্ফীতির হার কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ‘অর্থনীতিতে অনেক অপব্যয়, অর্থের অপচয়, লিকেজ ও সিস্টেম লস রয়েছে। এগুলো কমিয়ে আনতে পারলে জনগণকে স্বস্তি দেয়া সম্ভব। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো যাবে।’
আয়-ব্যয়ের এই টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর খরচ যেন তাদের আয়ের মধ্যে থাকে। তবেই হয়তো সারাদিনের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর কিছুটা স্বস্তি মিলবে তাদের জীবনে।