
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৭
সামদানি প্রত্যয়
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫
ডিবি অভিযানে গ্রেফতার হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরী নারীর প্রোফাইল থেকে আসত প্রেমের প্রস্তাব। এরপর মধুর ফোনালাপ ও মিষ্টি সম্পর্কের অভিনয়। শেষ ধাপে নির্জন বাসা কিংবা হোটেলের কক্ষে আমন্ত্রণ। তবে ঘরে পা দেয়ার পরই পাল্টে যেত দৃশ্যপট। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া–এমনই এক হানিট্র্যাপ চক্র ডিবির জালে ধরা পড়ার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় নারীদের ব্যবহার করে মধ্যবয়সি ও বয়স্ক বিত্তবান ব্যবসায়ীদের টার্গেট করা ব্ল্যাকমেইলিং চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
ডিবি প্রধান জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সি ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলের কক্ষে ডেকে নেয়া হতো। ভুক্তভোগীরা কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই চক্রের পুরুষ সদস্যরা হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন শুরু করতেন।
তিনি আরও বলেন, ‘হোটেল বা বাসায় ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করত চক্রটি। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা পরিবারকে জানানোর হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হতো। শুধু একবার নয়, টাকা দেয়ার পরও লাগাতার ব্ল্যাকমেইল করে দফায় দফায় অর্থ আদায় করা হতো।’
তদন্তের বিবরণ দিয়ে ডিবি প্রধান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিত। তারা ঘনঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করত। পাশাপাশি ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিকারের খোঁজ চালাত।
অভিযানে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও অবৈধ সেক্সটয় উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।