
সৈকতে নিখোঁজ অপর পর্যটকের মরদেহও উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৯

নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯) নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে রনি শিকদার (৩৮) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ওই দুজনকে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রনিকে এবং এর আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে তদন্ত চলছে।
এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন শাকের হোসেন।
তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ওই কাউন্টারের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রথমে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু মনে করে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ময়নাতদন্তে তার মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে শাকেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমবার শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন।
তবে গ্রেফতার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেন, নিহত শাকেরের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।