
কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ
উজ্জল চক্রবর্ত্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০:৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে স্টেশনমাস্টার-টিসিকে মারধর করা হয়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার ও টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান ও টিকিট কালেক্টর সঞ্জিত মণ্ডল আহত হয়েছেন। পরে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিসি সঞ্জিত মণ্ডল।
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রধান ফটকে এক যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে তাকে স্টেশন থেকে বের হওয়ার ফটকে আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে টিসির বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সঞ্জিত মণ্ডল ওই যাত্রীকে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই যাত্রী ফোন করে তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে জড়ো হন। স্টেশন ও পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, ওই যাত্রী নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বিষয়টি মীমাংসা করে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেন। স্টেশন কর্মকর্তা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই যাত্রী আরও ৮ থেকে ১০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটাসহ স্টেশনে আসেন। এ সময় স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে টিসি সঞ্জিত মণ্ডলকে একা পেয়ে তারা মারধর শুরু করেন।
সঞ্জিত মণ্ডলের চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। পরে স্টেশনের অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান বলেন, ‘ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা এক যাত্রীকে আইন অনুযায়ী আটক করায় টিকিট কালেক্টরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিও হামলার শিকার হই। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম মিয়া জানান, বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। হামলাকারীরা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মাইমলহাটির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।