
প্রথম শ্রেণিতে লটারিতে ভর্তি, দ্বিতীয় থেকে নবমে পরীক্ষা
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৭

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে ক্যাম্পাস ছাড়েন চুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ভিসি পদ নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। অন্যদিকে ভিসির দাবি তিনি এমন কোনো শর্তে নয়, বরং অসুস্থ হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ অবস্থায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আর এতে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৩ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবস্থানকালে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি ওষুধের প্রয়োজনে সহায়তা এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্যোগও নেয়া হয়। ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে ভিসি আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরবেন না এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের সামনে তিনবার ভিসিকে ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তখন ভিসি কিংবা তার সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। এ বিষয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভিসির প্রবেশে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অশান্ত হবে এমনটা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ভিসি হিসেবে তারা গ্রহণ করছেন না। তার প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা নতুন করে সংকট ও প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের দায় বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ভিসিকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা।
এর আগে, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় মুক্ত হন চুয়েট ভিসিসহ তার সঙ্গে আটকে পড়া আরও ১১জন। পরে অসুস্থ ভিসিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে ‘ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না শর্তে ভিসিকে মুক্ত করা হয়েছে’ এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম এক বিবৃতিতে এমন তথ্য মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
বুধবার এক বিবৃতি তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে যে আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। কারণ, আপনারা জেনে থাকবেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আসলে আমি কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলাম না। অসুস্থতার কারণেই আমি ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। এখনো আমি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশাআল্লাহ।