
বেতন আটকে দেয়ায় চুয়েট ক্যাম্পাসে দিনভর উত্তেজনা
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ সালে ভর্তি পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উপ-সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাহিদ তালুকদার রিটটি করেন।
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের এস. এম মনিরুজ্জামান ও এস. এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের আদালতে রিটের শুনানি হতে পারে।
২০২১ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা না নিয়ে ডিজিটাল লটারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিল করে স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। ওইদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লটারি বাতিল করে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। পরে সংশোধিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভতিৃ পরীক্ষা নেওয়া হবে। শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারিতে ভর্তি নেয়া হবে।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, ‘সরকার লটারি বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য উপাত্ত ও সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়নি। সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুল পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম সমাজে অসমতা তৈরি করবে। সমাজের দরিদ্র শ্রেণির শিশুরা কোচিং ও টিউটরের ব্যয় বহন করতে পারবে না। ফলে তারা পিছিয়ে পড়বে।’
আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও বৈষম্য বাড়বে। আমরা চাই না, কোমলমতি শিশুরা প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠুক। এ সব বিবেচনায় আমরা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়েছি।’
রিটকারী সংগঠন মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র কবীর আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ যেমন জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আয়ারল্যান্ডে লটারি পদ্ধতি চালু আছে। কোনো কোনো দেশে ক্লাস্টারভিত্তিক স্কুলগুলোতে ভর্তির সুযোগ আছে। আমাদের দেশেও লটারি বহাল থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভর্তি কোচিংয়ের রমরমা ব্যবসা শুরু হয়েছে। আমাদের কোমলমতি শিশুরা নিরুপায়ভাবে এখনই সামনের বার্ষিক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। যা শিশুদের জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম। শহরের শিশুরা ঘরবন্দি, খেলার মাঠগুলো বেদখল। ভর্তি পরীক্ষার নামে শিশুদের ঘরবন্দি করতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি শিশু আনন্দমুখর পরিবেশে শৈশব কাটাক। ভর্তি পরীক্ষার নামে আমরা শিশুদের গিনিপিগ বানাতে চাই না।’