
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নামার আভাস, মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা!
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৫

স্বর্ণের বার। ছবি: সংগৃহীত
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আগের সেশনে ১৮ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল মার্কিন ডলার। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধাতু কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানের দিকে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের কথা রয়েছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট অ্যানালিস্ট কাইল রড্ডা বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআইয়ের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে, বিশেষ করে মূল মুদ্রাস্ফীতির সূচকে, এবং এর ফলে অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা সামান্যও বাড়লে স্বর্ণের দাম আবারও কমতে পারে।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। কারণ, স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ২১ শতাংশ বলে মনে করছেন ট্রেডাররা। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ৮৮ শতাংশ ট্রেডার।
ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক মনে করেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনামূলকভাবে দ্রুত আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা উচিত। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনায় পড়তে শুরু করেছে।
এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটি নতুন করে হামলার শিকার হয়েছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর আপাতত বন্ধ থাকবে। এর কয়েক দিন আগে, শনিবার, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী একটি প্রস্থান টার্মিনালে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ০১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮২ দশমিক ৪৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৩৭ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ীই দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।