
দিল্লির আন্দোলনের নেপথ্যে কারা, তা বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর পোস্টে বোঝা যায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৬

সোমবার (১২ অক্টোবর) মেক্সিকোর নায়ারিত রাজ্যের সান ফ্রান্সিসকোতে হারিকেন সাইমনের প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউ সমুদ্রতীরবর্তী ভবনগুলোর ওপর আছড়ে পড়ছে। ছবি: রয়টার্স
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরপর দুটি ঝড় হারিকেন সাইমন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেল আঘাতে হেনেছে। এতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইমনের আঘাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের রাজধানী চিলপানসিঙ্গোতে দেয়াল ধসে ৭১ বছর বয়সি এক ব্যক্তি মারা গেছেন। রাজ্যটির গভর্নর এভলিন সালগাদো এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে রাজ্যের উপকূলীয় শহরগুলোতে অবকাঠামো ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর আকাপুলকোও রয়েছে।
অন্যদিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেলের কারণে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের এনসেনাদা শহরের উপকণ্ঠে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।
এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। রাজ্যটির গভর্নর মারিনা দেল পিলার জানিয়েছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইমন মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানেনি। পাঁচ ধাপের সাফির-সিম্পসন স্কেলে শক্তি কমে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে নেমে আসার পর ঝড়টি উপকূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। তবে বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে, উপকূলের কিছু এলাকায় পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এরই মধ্যে মিচোয়াকান ও কোলিমা রাজ্যের নদী ও জলধারার কাছের জনপদগুলোতে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এল নিনো পরিস্থিতি এ মৌসুমে ওই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হবে, এমন দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও এল নিনোর তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।