
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, আলোচনায় সম্মতি পুতিনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৩

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এবার সহিংসতা ঠেকানো হবে।
ফ্রান্সে আগামী কয়েক দিনে পরিকল্পিত বিক্ষোভে সহিংসতা কঠোর হাতে দমানোর অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে দেশটির অস্থিরতা নিয়ে কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যকে বোকামি ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গেলো কয়েকদিনে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে ফ্রান্সের রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। প্রধান ছাত্র সংগঠন ইউএনইএফ আগামী শনিবার আবারও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। একই দিনে প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনা করেছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনও। তবে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো হবে।
সংকট নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তবে বৈঠকে কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, মজুরি বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে তাদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি। আগামী ৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।
এদিকে, ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতা নিয়ে কয়েকজন বিদেশি নেতা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ম্যাক্রোঁ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিবাসী ও উগ্র ইসলামপন্থীদের দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছেন কয়েকজন বিদেশি রাজনীতিক।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে উঠে আসা সামাজিক দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বুধবার পার্লামেন্ট ছিল উত্তপ্ত। এ সময় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেক আইনপ্রণেতা সহিংসতার নিন্দা জানালেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। যারা ভাঙচুর, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞ নয়, বরং একটি বার্তা দিতে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাদের কথা উপেক্ষা করা যায় না বলেও উল্লেখ করেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য এবং বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়েই সরকারের ব্যাপক সমালোচনা চলছে ফ্রান্সে।