
দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৩

দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভেতরে অভিজিৎ দীপকেকে (বাঁ দিকে) ধরতে গেছে পুলিশ (ডান দিকে)। সংগৃহীত ছবি
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের একটি দল। পুলিশের সদস্যরা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে প্রবেশ করে তাকে আটক করার সময় দিপকে ইনস্টাগ্রামে লাইভে আসেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জন্তর মন্তরে সিজেপির পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে বিমানের ভেতরেই এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর এনডিটিভির।
দিপকে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, দিল্লি পুলিশের একটি দল বিমানে প্রবেশ করছে। বিমানের ভেতর থেকেই সিজেপির অন্য দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে তাকেও আটক করা হয়।
দিপকের পোস্ট করা ভিডিওতে বিমানের ভেতরে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা যায়। সিজেপির সদস্যরা পুলিশকে প্রশ্ন করেন, তাদের বিমান থেকে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো না কেন।
বিমানে ওঠা নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিপককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আমাদের বাইরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। আসুন, আমাদের গ্রেফতার করুন। আমরা ভয় পাই না।’
এরপর বিমানবন্দর থেকে পুলিশ সদস্যরা সিজেপি নেতাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এর আগে শনিবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে দিপক মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
এক বিবৃতিতে সিজেপি দিল্লিতে অবতরণের পরপরই বিমান থেকে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করার ঘটনাকে ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে সিজেপি বলেছে, ‘দিল্লি পুলিশের এই পূর্বপরিকল্পিত বাধাদানের উদ্দেশ্য হলো, আজকের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই নেতৃত্বকে অকার্যকর করে দেয়া। চলাচলের স্বাধীনতার এই নির্লজ্জ লঙ্ঘনের নিন্দা জানাচ্ছে সিজেপি এবং দিপকে, দাস ও রাঙ্কাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।’
এর আগে শনিবার সকালে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপির আইনি শাখার প্রধান রত্না সিংকেও তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়, যাতে তারা বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন।
এদিকে, রাতভর দিল্লি পুলিশের অভিযানে রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারী বলে সন্দেহ করা ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ সিজেপির বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য ছিল, যথেষ্ট আগে থেকে অনুমতির আবেদন করা হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের চলাচল ঠেকাতে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কয়েক ডজন ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে।