
নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আদ্যোপান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫১

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং এর ফলাফল নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই ইরানের। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেল আবিবের ক্ষমতায় কে এলো বা গেল তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'যে শাসকগোষ্ঠী আমাদের অঞ্চলে সহিংসতা ও গণহত্যা ছাড়া আর কিছুই আনেনি, তাদের নেতৃত্ব কারা গ্রহণ করল, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।'
ইসরাইলের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঘাই আরও বলেন, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে বলে ইরান মনে করে না। বরং ইসরাইলি রাজনীতিকদের মধ্যে 'কে কত বেশি মানুষ হত্যা করতে পারে’ তা নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানো এবং সাজানো অভিযানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপানোর জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন।
বর্তমানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ওয়াশিংটন হামলা স্থগিত রাখলেও সম্প্রতি নতুন করে ইরানে আগ্রাসনের হুমকি দিচ্ছে তেল আবিব ও ওয়াশিংটন। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইসরাইলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতামত ও জনমত জরিপের আভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানের হুমকি নস্যাৎ করার একমাত্র পথ তেহরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
এমনকি রোববার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৪’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, 'ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে আমি ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।'
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে ‘ফাঁকা হুমকি’ উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, এসব বক্তব্য নেতানিয়াহু সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও চরম মরিয়া ভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা আজ তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তেহরানের বৈঠকে ইসরাইলের ‘সম্প্রসারণবাদী’ নীতি, লেবানন সংকট এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের বিষয়গুলো প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে স্থান পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সার্বিক প্রচ্ছায়াতেই এই কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক আগ্রাসন শুরুর পর এবারই প্রথম বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীত্ব অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।