
ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভের ডাক, সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের অঙ্গীকার ম্যাক্রোঁর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪

২১ অক্টোবর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে (ডানে) অভ্যর্থনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আবারও আলোচনায় বসতে পারে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আগামী মাসে কিয়েভের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরুর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছে ক্রেমলিন। বৈঠকে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এ আলোচনায় সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি আগামী ১০ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে আর কোনো আলোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, নতুন দফার আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল পুতিন ও উইটকফের নবম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকের শুরুতে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়ায় আটক অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয় মস্কো। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনের কাছে হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠকে ইউক্রেন সংকটের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান পুতিন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, বিশেষ করে উভয় পক্ষের সেনাসদস্যদের প্রাণহানি বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন।
এদিকে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্তে সমঝোতায় পৌঁছাতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। অন্যথায় দেশটিকে ‘খুব খারাপ পরিস্থিতির’ মুখে পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় পুনরায় চালু হওয়ায় ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানির একটি ট্যাংকার বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির পর এটিই হবে প্রথম চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।