
‘নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে’: দিল্লির বিক্ষোভ দমনে সাধারণ ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৬

দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভেতরে অভিজিৎ দীপকেকে (বাঁ দিকে) ধরতে গেছেন নারী পুলিশ সদস্যরা (ডান দিকে)। সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিমানের ভেতরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের আটক করতে নারী পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। সবাই পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও কেন এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছিলেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত এক ডজন নারী পুলিশ সদস্য বিমানের ভেতরে সিজেপির তিন নেতাকে ঘিরে রেখেছেন। এভাবে বিমানের ভেতরেই আটক করতে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ দীপকে একে ‘একনায়কতন্ত্র’ বলে আখ্যা দেন। তিনি পুলিশকে তাকে গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ জানান। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের শান্ত থাকতে ও সহযোগিতা করতে বলেন এবং আলাদা জায়গায় নিয়ে যান।
বিমানে সিজেপির নেতাদের আটক করতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো, তা নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মতে, বিমানের সংকীর্ণ জায়গায় পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা বা ধাক্কাধাক্কি হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত। এ ছাড়া গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণীদের মারধর ও পোশাক ছিঁড়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেছিল সিজেপি।
এ ছাড়া, দলটির সমর্থকদের বড় অংশ তরুণ ও জেন-জি হওয়ায় এবার পুরুষ পুলিশের বলপ্রয়োগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি জনসমর্থন বাড়ুক—এমন পরিস্থিতি এড়ানোও পুলিশের কৌশলের অংশ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।