
চার মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিমধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার মূল উৎস ইসরাইলি দখলদারিত্ব
আবদুল আজিজ জুয়েল
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৬

ফ্রান্সে আবার নতুন করে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এক সপ্তাহ আগেই এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নগর সহিংসতার মুখোমুখি হয় দেশববাসী।
প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় সহিংসতা ছড়ানো ও লুটপাটের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পড়াশোনার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকেই এর সূত্রপাত। তবে বর্তমানে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রাজপথে নামায় আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এদিকে সামনেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষে আর ছয় মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই বেশ উত্তপ্ত।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের ওপর মানুষের ক্ষোভের সুযোগে কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেন দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন এবং জরিপে তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন।
সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে চলতি সপ্তাহান্তে প্যারিসের দক্ষিণের শহর অর্লেয়ঁ-র একটি ঘটনা। সেখানে লে পেনের দল 'ন্যাশনাল র্যালি' (আরএন) বিশাল এক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেবেন। অন্যদিকে একই সময়ে বিরোধী বিক্ষোভকারীরাও সেখানে পাল্টা জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের বড় ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সহিংসতা এড়াতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার থেকে দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা না আসা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।
শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান এবং বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে পুরো ফ্রান্স।
সূত্র: রয়টার্স