
ভারতে এবার ‘মাছি জনতা পার্টি’ নামে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৮

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা কমে আসায় যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে রিয়াদকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী। তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইসরাইলের যোগ দেয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেল আবিব। তবে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। যুবরাজের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে ইয়েমেনে ইসরাইলের সামরিক অভিযান সৌদির জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র হারেৎজকে জানিয়েছে, ইসরাইলের আশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। রিয়াদের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। যদিও, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী নেতানিয়াহু।
ইয়েমেনে ইসরাইলের সামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার অনুমতি ছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরাইলের অংশগ্রহণের সুযোগ কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্য প্রকাশ করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দুই দেশ এ বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। রিয়াদ-তেল আবিব চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগের সপ্তাহগুলোতে গাজা সংঘাত বিস্তৃত হওয়া এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু।
ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি