
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যেভাবে এল
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৭

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ১১০ সুবাহী মক্তবের ৬০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে পবিত্র কুরআন বিতরণ ও সবক প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার ঐতিহাসিক চিনাকান্দি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আলেমরা অংশ নেন।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিল বলেন, এখন আমি নিজেই কুরআন পড়তে পারি। প্রতিদিন ভোরে মক্তবে এসে কুরআন শিখতে আমার খুব ভালো লাগে। নিজের একটি কুরআন পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমার স্বপ্ন, বড় হয়ে পুরো কুরআন শিখব-- ইনশাল্লাহ।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার বলেন, স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি কুরআন শিখতে পেরে আমার খুব ভালো লাগে। আমি বড় হয়ে পুরো কুরআন শিখতে চাই এবং কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়তে চাই।
অভিভাবক জুবায়ের আহমেদ বলেন, সন্তানরা স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি কুরআন শিখছে, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা পেলে শিশুরা সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার, মুফতি আখতারুজ্জামান, রবিউল কারিম, মুফতি আব্দুল্লাহ শামীমসহ বরেণ্য আলেমগণ। এ সময় তাঁরা কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব, সুন্নাহভিত্তিক নৈতিকতা ও আদর্শ চরিত্র গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন।
খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার বলেন, শিশুকাল থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। কুরআন শিক্ষা নতুন প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে পরিচালিত ‘সুবাহী মক্তব’ বর্তমানে দেশের ৩৬টি জেলায় প্রায় ছয় হাজার কেন্দ্রে কার্যক্রম চালাচ্ছে। চলতি বছর এসব মক্তবে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত পরীক্ষায় আম্মাপারা বিভাগে অংশ নেয় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী। অক্টোবর মাসজুড়ে দেশব্যাপী কুরআন সবক কর্মসূচি চলছে। বিশ্বম্ভরপুরের এ আয়োজন সেই কর্মসূচির অংশ।