
হজের প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩৪

মসজিদে কুবা, মদিনা, সৌদি আরব
ইসলামে মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত এই পবিত্র স্থানগুলো শুধু নামাজের জায়গা নয়। এগুলো মুসলমানদের ঈমান, ঐক্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্র। ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার তিনটি মসজিদ রয়েছে: মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববী ও জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা। এই তিন মসজিদে ইবাদত ও সফরের বিষয়ে মহানবী (সা.) সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর ফজিলত ও ঐতিহাসিক গুরুত্বে যে মসজিদটি অনন্য, তা হলো মসজিদে কুবা।
মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ। হিজরতের সময় মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনার পথে যাত্রা করেন। মদিনার উপকণ্ঠে কুবা নামক স্থানে তিনি কিছুদিন অবস্থান করেন। সেখানেই তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এটি কেবল একটি ইমারত নয়। এটি তাকওয়া, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার প্রতীক।
পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবার ১০৮ নম্বর আয়াতে এমন এক মসজিদের কথা এসেছে, যা প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই আয়াতে মসজিদে কুবাকেই বোঝানো হয়েছে। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে অবস্থান করাই আপনার জন্য অধিক সঙ্গত। সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা ভালোবাসে, আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।’
এই মসজিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এখানকার নামাজের ফজিলত। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঘর থেকে ভালোভাবে ওযু করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করে, সে এক ওমরাহর সমান সওয়াব পায়। সাহাবি উসাইদ ইবনে খুদাইর (রা.) ও সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এই ফজিলতের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রতি শনিবার নিয়মিত মসজিদে কুবায় যেতেন। কখনো হেঁটে, কখনো বাহনে চড়ে তিনি সেখানে নামাজ পড়তেন। এতে বোঝা যায়, এই মসজিদের গুরুত্ব শুধু কথায় নয়। রাসুল (সা.)-এর আমলেও তা প্রতিষ্ঠিত।
মসজিদে কুবা অতীতের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা মাত্র নয়। এটি মুসলমানদের জন্য চিরন্তন শিক্ষার উৎস। এখানকার প্রতিটি ইবাদত অন্তরের পবিত্রতা, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্যের দিকে ডাকে। রাসুল (সা.)-এর পদচারণায় ধন্য এই মসজিদ আমাদের শেখায় তাওবা, ধৈর্য, পরিশুদ্ধ জীবন ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা।
মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় নিদর্শন। এখানে প্রতিটি নামাজ ইবাদতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির সুযোগ এনে দেয়। তাই মদিনা সফরে গিয়ে এই মসজিদে নামাজ আদায় শুধু একটি আমল নয়। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সওয়াব লাভের সোনালি সুযোগ।
একটি তথ্যগত বিষয় জানিয়ে রাখি। আপনার মূল লেখায় সাহাবির নাম ছিল “সাহাল ইবনে হানিফ”। প্রচলিত বানান ও উচ্চারণ হলো সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)। আমি সেটিই ব্যবহার করেছি। প্রকাশের আগে আপনার নিজস্ব সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।