
মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল‘মাগরিবের আগে টাকা পাঠাইয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন দিমু’
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫১

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে সিবিডি কপ-১৭ এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এ আহ্বান জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
তিনি বলেন, দেশের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র প্রায় ১৪ হাজার বৈচিত্র্যময় প্রজাতিকে ধারণ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির অবক্ষয় সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এসব সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
ড. ফাহমিদা খানম জানান, কুনমিং-মন্ট্রিয়েল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সব অংশ ও সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।
এ কাঠামোর আলোকে বাংলাদেশ ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা জমা দিয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ১০৭টি কার্যক্রম। জীববৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতিতে ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার উদ্যোগ বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি। এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু এবং মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা, ভূমির অবক্ষয় রোধ, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও পুনর্বিন্যাস করছে। জিনগত সম্পদসংক্রান্ত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য (ডিএসআই) ও সিনথেটিক বায়োলজিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার পরিবীক্ষণে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ।
জীববৈচিত্র্য সনদের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে উন্নত দেশগুলোর প্রতি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। বিশেষভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক তথ্য উৎপাদন, পরিবীক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়ন, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়। এ অর্থায়ন সহজ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তিযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মালিকানা নিশ্চিত করে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমির অবক্ষয় রোধ ও জলবায়ু কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপক্ষীয় পরিবেশ চুক্তিগুলোর পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।
ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ইয়েরেভান সম্মেলন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে উত্তরণের একটি কার্যকর মাইলফলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।