
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়েও মিলছে না ভূমিসেবা। নামজারি থেকে শুরু করে শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধাপে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা হলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। আবু সোয়েব বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।
হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করেন অভিযুক্তরা। এ টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। আর নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
একই সঙ্গে অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'আমি ওইখানে যাই সপ্তাহে দুই এক দিন। এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করে দেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো দেখে কাগজপত্র যাচাই করে আমি রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।'
বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ বলেন, 'কোনো ঘুষ গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে, কোনো ঘুষ নেয়ার সুযোগ নাই।'
তবে ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, 'বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই নেয়া হবে।'