
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি পুত্র মিন্টুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২০

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত আবেগের বশে নয়, বরং গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে নেয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যে মক্কা চুক্তি করেছে, তা একান্তই তাদের নিজ নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে কাঠামো দরকার, মক্কা চুক্তিতে তা আছে বলে মনে হয় না। এ চুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা অনিশ্চিত। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তিতে যাবে কি-না, তা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো ভাবাবেগ নয়, বরং গভীর চিন্তার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ সেনা পাঠাবে কি-না, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। প্রয়োজনে মক্কা চুক্তি না করে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উপায়েও সেনা পাঠানো যেতে পারে।
এম হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ সৌদি আরবের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আমাদের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারত, ইসরাইল, ইউএই মিলে আরেকটি অক্ষশক্তি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট বর্তমানে জটিল অবস্থায় উপনীত উল্লেখ করে সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের যে সংঘাত, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিলতর করেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ ও পারস্পরিক সম্মান দেয়ার মাধ্যমেই এ সংঘাত নিরসন সম্ভব হতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নি সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা আজ মুসলমানদের নাজুক করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসির মতো সংস্থাগুলো আজ অকার্যকর।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে, যা ইসলামবিরোধীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়াগুলো ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থি’ ধর্ম হিসেবে তুলে ধরছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, যেদিন ইসলামি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যকার দেয়াল ভেঙে এক কাতারে এসে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলামবিদ্বেষীদের সব প্রোপাগান্ডা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। এমন এক ক্রান্তিকালে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ‘মক্কা চুক্তি’ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তেহরানে মক্কা প্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলমান। সৌদি—হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা উন্মোচিত হলেও, গত দুদিন আগে ইয়েমেনে এবং হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারো উসকে দিচ্ছে। মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ আমরা কিভাবে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা হবে, তা দেখতে হবে।
‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস ও সাংবাদিক শাতিলা শারমিন।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেয়া হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।