
‘লগি-বৈঠা’ দিয়ে হত্যাকাণ্ড: বিচার দাবিতে কুমিল্লায় জামায়াতের বিক্ষোভ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২০

কসবা উপজেলা চত্বরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: সময় সংবাদ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি দায়িত্ব নেয়ার পর। এ দেশের অর্থ লুটেপুটে ফ্যাসিস্টরা বিদেশে পাচার করেছে। তারা স্বাস্থ্য খাতকেও একেবারে শেষ করে দিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে কসবা উপজেলা চত্বরে কসবা এবং আখাউড়া উপজেলায় জনগণের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাত একটা দুর্নীতির খাত হিসেবে উত্থান হয়েছিল। তারা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনেছিল যেগুলো অকেজো। এগুলোকে ভাঙারিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন টেন্ডারে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ লুটপাট হয়েছে। জেলা পর্যায়ের টেন্ডারে লুটপাট হয়েছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম চতুর্দিকে দুর্নীতির একটা ভান্ডার পেলাম। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। স্বাস্থ্যখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন।
এসব চিন্তা কিন্তু সেই সময় কেউ আর করেনি। পরে বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় আসলেন উনিশ থেকে পঞ্চাশ শয্যায় রূপান্তর করলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দিলেন। বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আমরা আধুনিক প্যাথলজি স্থাপন করতে যাচ্ছি। হাসপাতালে আগামী দুই বছরের মধ্যে কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে। এ হাসপাতাল থেকে কিডনি রোগীরা ঢাকা কিংবা বড় শহরে যেতে হবে না। এসব হাসপাতালে ২০টি সিট থাকবে, আমাদের মায়েদের জন্য ২০টা সিট থাকবে। আমাদের বাচ্চাদের জন্য ২০টি সিট থাকবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা বিল্ডিং, ইউনিয়ন বিল্ডিং এবং এবং ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টারসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হতে যাচ্ছে। এসব ভবনের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে।
আমরা এই বছরই ৪১ হাজার ৩৯১ জন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছি। যার মধ্যে নার্স থাকবে, আয়া থাকবে, মিডওয়াইফ থাকবে, আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা মেডিকেলে রোবোটিক সার্জারি ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের দলাল, বাটপারেরা মানুষের পকেটে টাকা কেটে নিয়ে যায়। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার মধ্যে নতুন কোনো ক্লিনিক করতে দেয়া হবে না। যেগুলো আছে এগুলো শর্ত মোতাবেক কাজ করতে হবে। এদের ব্যাপারে ডিসি এবং সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। যদি কোনো অনিয়ম- দুর্নীতি পাওয়া যায়, সেগুলোকে সিলগালা করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কসবা-আখাউড়ায় সকল চিকিৎসকদের সংকট নিরসনের ঘোষণা দেন।
এর আগে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো.আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম, রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহজাবিন রহমান, সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন, ফার্স্ট সেক্রেটারি বাংলাদেশ সাইদ হায়দার, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।