
ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গে একদিনে ১৩ মৃত্যু
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজিত বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা কর্মসূচিতে সেবা নেওয়া অন্তত অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন (পচন) ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক এ ঘটনার পর শিশুদের জরুরি চিকিৎসা ও মূল কারণ অনুসন্ধানে টেকনাফ থেকে ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে দ্বীপে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের টিম দ্বীপের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত ২১০ জন শিশুর খতনা সম্পন্ন করে এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করে।
তবে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে খতনা করানো শিশুদের ক্ষতস্থানে তীব্র যন্ত্রণা, ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দিলে অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্তত ৫০ জন শিশু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন হাসপাতালে আসে। এদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামের দুই শিশুর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানান, শতাধিক শিশুর মধ্যে বেশ কিছু শিশুর শারীরিক জটিলতার খবর পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত ও চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। মেডিকেল টিমের প্রধান ও টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন সেন্টমার্টিন পৌঁছে জানান, তারা ইতোমধ্যে খতনা করানো ১২০ জন শিশুর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর মধ্যে ১০ জন শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে এবং ১০ থেকে ১২ জনের শরীরে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের প্রমাণ মিলেছে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ডা. কানন জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, 'অসুস্থ শিশুদের জরুরি সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম দ্বীপে পৌঁছেছে। ঘটনার মূল কারণ ও কোনো পক্ষের গাফিলতি রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দোষ বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'