
ডেমরা সেতু মেরামতে দুদিন যানজটের শঙ্কা, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ
আবু সাঈদ নিশান
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২

নগরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ সেই গাছই এখন দূষণের শিকার। পাতায় জমছে ধুলোবালি, যানবাহনের ধোঁয়ায় বিবর্ণ হচ্ছে লতাপাতা। ব্যাহত গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।
কেবল বায়ুদূষণই নয়, শিকড় বিস্তারেও গাছ পায় না পর্যাপ্ত জায়গা। নগরে কংক্রিটের দাপটে বাধাগ্রস্ত হয় মাটিতে পানি প্রবেশ। কোথাও শিকড়ের পাশেই জমছে দূষিত পানি ও বর্জ্য। এতে অস্তিত্ব সংকটে গাছ।
গাছের ওপর নির্ভরশীল পাখি, কীটপতঙ্গসহ অসংখ্য প্রাণী। গাছের ডালে আশ্রয় নেয় পাখি, ফুলে মৌমাছি-প্রজাপতির বিচরণ, আর ফলের মাধ্যমে ছড়ায় বীজ। এভাবেই ভারসাম্য রক্ষা করে প্রকৃতি। তাই, গাছের অস্তিত্ব সংকট মানে শুধু সবুজ হারানো নয়, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্যও।
দূষণ আর প্রাকৃতিক বৈরিতায় নগরের অনেক গাছেই এখন বসে না পাখি। নেই পর্যাপ্ত ফুল-ফল। গাছের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে, প্রকৃতির বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞের মতে, গাছের সুরক্ষায় কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা বলছেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রজাতি নির্বাচন, যথাযথ পরিচর্যা ও গাছকে ঘিরে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা করাই নগরায়নের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, একটি গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। কিন্তু সেই গাছ যদি কার্বন শোষণ করতে না পারে তাহলে আমাদের অক্সিজেনও দিতে পারবে না। গাছটিকে সব সময় ধুলোবালি মুক্ত রাখতে হবে। কমিউনিটি বেসড প্রটেকশন সিস্টেম যদি ডেভেলপড করতে পারি, তাহলে গাছ বাঁচবে। গাছ বাঁচলে পশু-পাখি বাঁচবে। আর পশু-পাখি বাঁচলে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতা তুলে ধরেন নিসর্গবিদ ও লেখক মোকারম হোসেন। তিনি বলেন, গাছকে ঘিরে প্রাণীবৈচিত্রে ভারসাম্যহীনতা প্রকট হচ্ছে। গাছের পরিচর্যা হচ্ছে না। এতে গাছ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। পোকা-মাকড়, পাখির খাদ্য সংস্থানও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই শহরে বেজি, কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী ও পাখি কমে যাচ্ছে।
যত্রতত্রভাবে গাছ লাগানোতে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য। গাছের পরিচর্চাতেও নেই সরকারের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ। সরকারের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে বৃক্ষবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, একটি গাছকে বেড়ে উঠার সুযোগ দিতে হবে। মাটির সঙ্গে গাছের সংযোগ করাতে হবে। প্রয়োজনীয় পানি দিতে হবে। শহরের যে নান্দনিক সৌন্দর্য বা প্রাণ প্রকৃতি এগুলো নিয়ে আমরা নতুন করে ম্যাপিং করছি , আরও কাজ করছি। আশা করছি আগামীতে এগুলো ওভারকাম করতে পারবো।