
পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
মাছুদুর রহমান, ঢাকা
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭

তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
গত ২১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিট। মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের অনুপম গলিতে হাঁটছিলেন দুই তরুণ-তরুণী। এ সময় একটি অটোরিকশা থেকে নেমে বড় সামুরাই বের করে তাদের ঘিরে ধরে দুই ছিনতাইকারী। পরে দেশীয় অস্ত্র হাতে আরও দুজন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে ওই তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
ঘটনা দেখে স্থানীয়রা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। তবে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চার-পাঁচজনের হাতে বড় বড় চাপাতি ছিল। তারা ওই তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে চাপাতি দেখিয়ে ভয় দেখান। মোবাইল ফোন দিতে বাধা দিলে তরুণীকে কোপানোর হুমকি দেয়। ছিনতাইয়ের সময় ধস্তাধস্তিতে দুজনই রাস্তায় পড়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সলিমুল্লাহ রোডে এটি নতুন ঘটনা নয়। এই ঘটনার ১৫ ঘণ্টা না পেরোতেই ২২ অক্টোবর ভোরে একই কায়দায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৩ অক্টোবর একই এলাকায় ঘটে আরেকটি দুর্ধর্ষ ছিনতাই। চার ছিনতাইকারী এক যুবককে সামুরাই ঠেকিয়ে জিম্মি করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। শুধু ফোন নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ফোনের লকও খুলে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছিনতাইকারীরা প্রথমে যা আছে, সব বের করে দিতে বলে। ওই যুবকের কাছে একটি আইফোন ছিল। ফোনটি নেয়ার পর তারা লক খুলে দিতে বলে। তা না হলে মারার হুমকি দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সলিমুল্লাহ রোডে এটি পঞ্চম ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেরাই তাদের ধাওয়া করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, দিনের বেলায় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে রাতের অন্ধকারে কী হচ্ছে, তা কে জানে?
এলাকাবাসী জানান, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় অনেক সময় নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন আর ওই এলাকাগুলোতেই অপরাধ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সলিমুল্লাহ রোডের মতো আবাসিক এলাকাতেও প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে পাঁচটি ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারেও একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের ধরন দেখে এসব ঘটনায় একই গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এরইমধ্যে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, ‘আমাদের টিম হয়তো এক গলিতে থাকলে তারা সেই গলি এড়িয়ে অন্য গলি দিয়ে গিয়ে এ কাজটি ঘটায়। তবে আমাদের বিশেষ অভিযান এবং ব্লক রেইড কয়েক দিন আগে শুরু হয়েছে। আমরা সেটি আরও জোরদার করেছি।’
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশ, এসআরবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।