
উদ্বোধনের আগেই ফ্লাইওভার থেকে খসে পড়ল কংক্রিট, ইজিবাইকচালক আহত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৩

ছেলের প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রেজাউল করিম। ছবি: সময় সংবাদ
সৌদি আরবে নিরাপদ কর্মসংস্থানের আশ্বাসে ছেলেকে পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক অসহায় বাবা। সেখানে গিয়ে কোনো কাজ না পেয়ে এবং আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন যুবক মো. রোকনুজ্জামান রিংকু। কাজ ও আয়ের সুযোগ না থাকায় সেখানে চরম মানবেতর জীবন কাটছে তার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর মনোহরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে আপন মামা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলেন রিংকুর বাবা মো. রেজাউল করিম (জুয়েল)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, ছেলের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের আশায় তিনি আপন মামা মো. চুন্নু তালুকদার, মামি রাহিমা ওরফে পলি, সৌদি আরবে থাকা তাদের ছেলে রাজ্জাক তালুকদার এবং শ্যালক বেল্লালের মাধ্যমে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। সেখানে ভালো চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে ভিসার খরচ বাবদ তাদের চার লাখ টাকা দেয়া হয়।
রেজাউল করিমের অভিযোগ, টাকা নেয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে রিংকুকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আকামা করে দেয়ার কথা বলে রাজ্জাক ও বেল্লাল আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। দীর্ঘদিন পর আকামা দেয়া হলেও এরই মধ্যে সেই মেয়াদের পাঁচ মাস পেরিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আকামা পাওয়ার পর তার ছেলে মাত্র তিন মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে দুই মাসের বেতন পান। বর্তমানে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা আর নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থানীয় পুলিশের হাতে আটকের ভয়ে রিংকু এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমনকি ছেলের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গত তিন মাসে দেশ থেকেই এক লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠাতে হয়েছে।
ছেলের দুরবস্থার কথা জানিয়ে রেজাউল করিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কর্মসংস্থানের আশায় এত টাকা খরচ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। অথচ এখন দেশে বসেই তার খাবারের টাকা পাঠাতে হচ্ছে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টো তাদের বেশি চাপ দিলে ছেলেকে সৌদি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়া এবং দেশে ফিরতে না দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. চুন্নু তালুকদার। তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবে তার ছেলের কাছে রেখেই রিংকুর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বাবদ তাদের ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে পাঠানোর শুরুতে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হলেও চার লাখ টাকা দেয়া হয়, বাকি এক লাখ টাকা এখনো বকেয়া। সেই পাওনা টাকা পরিশোধ না করতেই রেজাউল করিম এমন মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি তার।
সংবাদ সম্মেলনে ছেলের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী বাবা।