
চাঁদা দাবিতে হামলা-ভাঙচুরের পর এজেআর কুরিয়ারের গাড়িতে আগুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫৬

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর আগে শেষ সাত ঘণ্টার গতিপথ উঠে এসেছে অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে। মায়ের সঙ্গে শপিং, জুনিয়র বন্ধুকে নিয়ে গ্যারেজে মোটরসাইকেল মেরামত, বান্ধবীর সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খাওয়া-এরপর হঠাৎ বন্ধু ও বান্ধবীকে নিয়ে বারে যাওয়া। সবশেষে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর মাজার বস্তি। মাত্র সাত ঘণ্টায় একের পর এক জায়গায় গেছেন তাহসিফ।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও মেলেনি ঘটনার রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৬ মিনিটের হিসাব। বস্তিতে পুলিশের উপস্থিতির পর তাহসিফকে ফেলে দীপের চলে আসার আগের ওই সময়টায় কী ঘটেছিল, তা এখনো অজানা। সেই রহস্য উন্মোচনে কাজ করছেন নৌ-পুলিশের তদন্তকারীরা।
সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে সময় সংবাদও জানার চেষ্টা করে তাহসিফের শেষ সময়টুকু কীভাবে কেটেছিল।
তুরাগ নদ। রাজধানীর সীমানাঘেঁষা এ নদে শীতকালেও স্রোত থাকে। অসংখ্য কচুরিপানা ভেসে বেড়ায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। গত ২৮ অক্টোবর এই কচুরিপানার সঙ্গে টঙ্গী প্রান্ত থেকে ভেসে আসছিল একটি মরদেহ। রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটের দিকে আসার পথে ঘাটে বাঁধা একটি স্পিডবোটে আটকে যায় মরদেহটি। খবর দেয়া হয় নৌ-পুলিশকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মরদেহটি উপুড় হয়ে ছিল। তাই ছেলে না মেয়ে, তা বোঝা যাচ্ছিল না। ভেসে আসার সময় স্পিডবোটের পাখার পেছনে আটকে যায়। তোলার পর শরীরে মারধর বা অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।
নৌ-পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। আলামত সংগ্রহ করে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। নিহতের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। জানা যায়, মরদেহটি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির।
তাহসিফের বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে। আর মরদেহ পাওয়া যায় তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায়। প্রশ্ন ওঠে, বাসা থেকে এত দূরে কীভাবে পৌঁছাল তার মরদেহ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে ২৭ অক্টোবর বিকেল ৪টায়, উত্তরার একটি শপিং মলে।
গত ২৭ অক্টোবর বিকেল ৪টায় রাজধানীর উত্তরা স্কয়ার শপিং মলে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করছিলেন তাহসিফ সৌরি। মায়ের সঙ্গে শপিং শেষে স্বাভাবিকভাবেই বাসায় ফেরেন তিনি। শপিং মলের এক বিক্রেতা বলেন, ‘বিকেলের দিকে এসেছিলেন। কেনাকাটা করছিলেন। ছবিতে দুজনকে দেখেই চিনতে পেরেছি।’
উত্তরা স্কয়ারসহ রাজধানীর কয়েকটি শপিং মলে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরেছিলেন তাহসিফ। কে জানত, এই ফেরাই হবে তার শেষ ফেরা। এরপর কোথায় গিয়েছিলেন তিনি, কী ঘটেছিল তার সঙ্গে-সেসব তথ্য জানার চেষ্টা করেছে সময় সংবাদ।
সেদিন উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী বিল্ডিং থেকেই জুনিয়র বন্ধু দীপের সঙ্গে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্টের করবী বিল্ডিংয়ের পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন তাহসিফ। কুশল বিনিময়ের পর মোটরসাইকেল আনতে যান তারা। সড়ক দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্যারেজে পড়ে থাকায় মোটরসাইকেলটি চালু করান তাহসিফ। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে সেটি মেরামত করাতে বাসা থেকে বের হন দুজন।
কিন্তু কোথায় ছিল সেই গ্যারেজ? দীপ শুধু জানিয়েছিলেন, উত্তরা উত্তর স্টেশনের পাশের একটি গ্যারেজে মোটরসাইকেল ঠিক করিয়েছেন তারা। সেই গ্যারেজের খোঁজে নামে সময় সংবাদ। স্টেশন পার হয়ে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর ব্রিজ, এরপর ২ নম্বর ব্রিজ-এভাবে খুঁজেও প্রথমে গ্যারেজটির সন্ধান মেলেনি। পাঁচ-ছয়টি গ্যারেজ ঘোরার পর অবশেষে পাওয়া যায় ‘টু হুইলার রেভল্যুশন’।
গ্যারেজের মেকানিকরা জানান, সেদিন তাহসিফ ও দীপ সেখানেই এসেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে গ্যারেজের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলে ছিলেন তাহসিফ ও দীপ। কিছুদূর গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে গ্যারেজে ঢোকেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মোটরসাইকেল মেরামত করান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যান তাহসিফ। সেখানে থেকে যান দীপ। রাত ৮টা ২৮ মিনিটে নিজের মোটরসাইকেল ধুয়ে চলে যান তিনিও। গ্যারেজের এক মেকানিক বলেন, ‘তারা দুটি বাইক শুধু ওয়াশ করে চলে গেছেন। তাহসিফের কাজ আগে শেষ হয়েছিল। তিনি আগে চলে যান, দীপ পরে যান।’
গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে তাহসিফ যান রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের শপিং কমপ্লেক্সে। সেখানকার সিপি ফাইভ স্টারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ১০ মিনিটে বান্ধবী দিশাকে নিয়ে সেখানে ঢুকছেন তাহসিফ। ৩২ মিনিট পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান তারা।
রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে দিশার বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেঁটে বাসায় ঢুকছেন তিনি। একই সময়ে ওই শপিং মলের কুকুরুকু রেস্টুরেন্টে দীপের সঙ্গে প্রবেশ করেন তাহসিফ। দীপকে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যান দুজন।
রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী বলেন, ‘তারা দুই নম্বর টেবিলে বসেছিলেন। তাহসিফের সঙ্গে দীপ ছিল। তারা খাওয়া-দাওয়া করেন, এরপর কিছুক্ষণ পর চলে যান। তাহসিফ প্রায়ই আসতেন। এলে ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বসতেন।’
রুয়াব কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে সেদিন প্রথমে বান্ধবী দিশাকে নিয়ে, পরে বন্ধু দীপকে নিয়ে এসেছিলেন তাহসিফ। খাওয়া-দাওয়া শেষে কোথায় গিয়েছিলেন তারা? রাত ৯টা ৪৩ মিনিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দিশাকে আবারও অন্য পোশাকে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। এরপর রাত ১০টা ২৩ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পার্কিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল থেকে দিশাকে নিয়ে নামছেন তাহসিফ। পেছনে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছিলেন দীপ। এরপর লিফটে করে ওপরে চলে যান তারা। বারের একটি টেবিলে বসে সময় কাটান তিনজন।
এসময় ওয়েটারকে ডেকে সাউন্ডবক্স আনান তারা। এরপর স্যাড মিউজিক শোনেন। এভাবেই সেখানে কাটান ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে বার থেকে বেরিয়ে যান তারা। উত্তরার এই নেস্ট বারে বসেই তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার কথা দিশা ও দীপকে বলেছিলেন। দিশা যেতে রাজি না হলেও তাহসিফের সঙ্গে মাজার বস্তিতে যান দীপ। কিন্তু কীভাবে সেখানে পৌঁছেছিলেন তারা?
উত্তরার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাহসিফ, দিশা ও দীপকে রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফিরতে দেখা যায়। দিশার বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪ মিনিটে মোটরসাইকেলে করে তাকে বাসার সামনে নামিয়ে দেন তাহসিফ। এরপর হেঁটে বাসায় ঢোকেন দিশা।
অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় যে ভবন থেকে বান্ধবী দিশাকে নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪ মিনিটে আবারও তাকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে যান। এরপর কোথায় গিয়েছিলেন তিনি?
টঙ্গীর মাজার বস্তির দিকে ছিল সময় সংবাদের অনুসন্ধান। বস্তিতে প্রবেশের মুখেই রয়েছে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা। ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে দ্রুতগতিতে বস্তিতে ঢুকছেন তাহসিফ। এরপর সেখানে প্রবেশ করে দীপের মোটরসাইকেল।
মাজার বস্তির যে জায়গায় সেদিন তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেল পার্ক করেছিলেন, সেটি শনাক্ত করা গেছে। এরপর তারা সামনের দিকে এগিয়ে একটি গলিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। গলিতে প্রবেশের আগে ও পরে ওই এলাকায় কী ঘটেছিল, তা জানতে সংগ্রহ করা হয় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।
গলির মুখে থাকা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে গলিতে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাহসিফ। এসময় বস্তির এক নারী তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তর্কে জড়ান তাহসিফ। সঙ্গে ছিলেন দীপও।
ওই নারী বলেন, “তিনি জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তখন আমরা তাকে নিষেধ করে বলি, ভেতরে গেলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। তিনি উল্টো বলেন, ‘আমি ভেতরে যাব, কোনো সমস্যা নেই। আমরা রেইড দেব, আপনার কোনো সমস্যা হবে না।’ এ কথা বলেই তিনি ভেতরে চলে যান।”
এরপর দীপকে তর্কে না জড়িয়ে দ্রুত গলির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন তাহসিফ। সেই গলি ধরে সামনে এগিয়ে যান তারা। গলিটি ধরে এগিয়ে প্রধান সড়কে ওঠেন তাহসিফ ও দীপ। এরপর সেখান থেকে যান নদীর তীরে। কোন পথে তারা নদীর তীরে পৌঁছেছিলেন, তা খুঁজতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
বস্তির মাজার গেটের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ১২টা ৫২ মিনিটে তাহসিফের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়। এসময় রাস্তার পাশে থাকা কয়েকজনের কাছে কিছু একটা চেয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলেন তিনি। তার পেছনে ছিলেন দীপও।
মাজার গেট পার হওয়ার পর আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তাই পায়ে হেঁটে তাহসিফ ও দীপের সম্ভাব্য গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করে সময় সংবাদ। প্রায় ছয় মিনিট হাঁটার পর বস্তির পাশের একটি ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছানো যায়। সেখানে একটি ভবনের সিঁড়ি রয়েছে। দীপের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ এখানে বসেছিলেন তারা।
রাত ১টা ৫ মিনিট। বস্তির পিংকি গার্মেন্টসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, আট সদস্যের পুলিশের একটি দল মাঠে প্রবেশ করছে। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ দেখে মাঠে থাকা লোকজন দৌড়াতে শুরু করলে তাহসিফ ও দীপও দৌড় দেন। দীপ তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে চলে যান। আর তাহসিফ যান নদীর তীরের দিকে। অন্ধকার থাকায় এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ অভিযানে এলে অনেকে ধরা পড়ার ভয়ে পানিতে লাফিয়ে সাঁতরে নদ পার হয়ে পালিয়ে যায়। তবে তাহসিফের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বস্তির মাজার গেটের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরার রাত ১টা ১৯ মিনিটের ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের দলটি মাঠ থেকে বেরিয়ে এসেছে। একই সময়ে পিংকি গার্মেন্টসের ক্যামেরার ফুটেজে দীপকেও বস্তিতে ফিরে আসতে দেখা যায়। এরপর রাত ১টা ২১ মিনিটে আরেকটি ক্যামেরায় তাকে হাঁটতে দেখা যায়।
এরপর আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় দীপের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। রাত ১টা ৫২ মিনিটে তাহসিফকে রেখে বাসায় চলে যান তিনি। এই ৩১ মিনিট দীপ কোথায় ছিলেন, তার কোনো হিসাব মেলেনি সিসিটিভি ফুটেজে।
তাহসিফের বাসা থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি পর্যন্ত পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন স্থানে তার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। তবে মাজার বস্তি থেকে তুরাগ নদের তীর পর্যন্ত আসার পথে কোথাও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কারণ, ওই এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই।
বস্তির সেই মাঠ থেকে দীপ রাত ১টা ১৯ মিনিটে চলে গেছেন। অন্যদিকে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মায়ের ফোনে একটি বার্তা আসে। মাঝের এই ১৬ মিনিটেই আটকে আছে মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। ওই সময়ের হিসাব মেলাতে পারলেই হয়তো উন্মোচিত হবে আলোচিত এই মৃত্যুর রহস্য।
এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছে না তার পরিবার। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা। তাহসিফ সৌরির বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে এবং সত্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে দীপকে হেফাজতে নিয়ে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই। পরে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করার পর তার মৃত্যুর আগে সঙ্গে থাকা জুনিয়র বন্ধু দীপ ও বান্ধবী দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করছে নৌ-পুলিশ। পরিবারের দাবি করা, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের পাঠানো ভয়েস মেসেজ নিয়েও চলছে তদন্ত।
নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তারা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে, তার কোন অংশ কতটুকু সঠিক, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সময় যেহেতু আছে, তাই বাকি কাজগুলো করে দেখি, কী ফলাফল পাওয়া যায়।’
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের শেষ সাত ঘণ্টার গতিপথ জানা গেলেও তার মৃত্যুর আগের শেষ মুহূর্তগুলোর রহস্য এখনো অমীমাংসিত। শেষ পর্যন্ত সেই ১৬ মিনিটের হিসাব মেলানো যাবে কি না, উঠছে সেই প্রশ্ন।