
জমানো টাকা হারানো সেই কৃষককে ২ লাখ টাকা দিলেন প্রবাসীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬

ছবি: এআই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের মতে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা মূলনীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও জনগণের সম্মতি ও বৈধতা নিশ্চিতে গণভোটের আয়োজন করতে পারে সরকার।
গণভোট হলো কোনো বিশেষ আইন, সংবিধান সংশোধন বা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতির বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেয়ার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ভোটাররা নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের মত জানান।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, গণভোটে ভোট দেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এর ফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি এগোয়নি। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ও প্রকাশিত সনদের মধ্যে ভিন্নতার অভিযোগ তুলে নির্বাচনের আগেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সময় বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। তবে জামায়াত এবং এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুই শপথই নেন। ফলে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের যে ঘোষণা ছিল, তা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বর্তমান সরকার। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে এ পর্যন্ত সাতটি বৈঠক করেছে কমিটি। এসব বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নতুন করে গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
কমিটি জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের আশা রয়েছে। তবে কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্দিষ্ট বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কয়েক মাস আগেই যেখানে জনগণের মতামত নেয়া হয়েছে, সেখানে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন?
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের পর যে বিধান রয়েছে, তার আলোকে সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটিতে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর পর, তিনি এটা গণভোটে পাঠাবেন।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হলে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে জনগণের সম্মতির বিষয়টি জড়িত।’
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, ওই গণভোটে একাধিক বিষয়কে একটি প্রশ্নের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেয়া হয়েছিল, যা প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘বিগত যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটার প্রক্রিয়াগত অনেকগুলো ভুল ছিল। অনেকগুলো প্রশ্নকে একটা প্রশ্নের মধ্যে নিয়ে গেছে, হ্যাঁ অথবা না। এভাবে গণভোট হয় না। মূলত গণভোট পার্টিকুলার ইস্যুতে হতে পারে।’
উদাহরণ টেনে কে এম মহিউদ্দিন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো কেমন হবে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে সেই নির্দিষ্ট প্রস্তাবের ওপর গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধন এবং গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে গণভোটের আলোচনা সামনে এসেছে। তবে নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করবে সংবিধানের কোন কোন বিধানে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী—তার ওপর।