
সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩৭

কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তসংলগ্ন ধানক্ষেতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা আত্মগোপনে থেকে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা বড়িসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৫। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি দেশীয় তৈরি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার মো. আবছার উদ্দীন (১৯) ও একই এলাকার মো. আদিল (২৬)।
এসআরবি-১৫ জানায়, মঙ্গলবার টেকনাফের শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সূত্রে মাদক পাচারের তথ্য পায় এসআরবি-১৫-এর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল। প্রাপ্ত তথ্য মতে, সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চক্রটির সদস্যরা হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
সংবাদ পাওয়ার পর আভিযানিক দলকে দুটি ভাগে ভাগ করে মৌলভীবাজারের একটি ধানক্ষেতে সম্ভাব্য দুটি স্থানে অবস্থান নেওয়া হয়। পাচারকারীরা কোন দিক দিয়ে আসবে তা নির্দিষ্ট না থাকায়, সদস্যরা সন্ধ্যা থেকে টানা প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা ধানক্ষেতে আত্মগোপন করে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে পাচারকারীরা সামনে এলে দুজনকে ঘেরাও করে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ১১ লাখ ইয়াবা ও পাঁচটি রামদা উদ্ধার করা হয়।
বুধবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন কক্সবাজারে অবস্থিত এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান।
তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশে প্রবেশ করছে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মাদক চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, 'সীমান্তের ওপারে অভিযান পরিচালনায় আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে দেশের ভেতর থেকে যাঁদের আটক করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে মাদক পাচারকারী পুরো নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।' মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এসআরবি-১৫-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৫টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০টি ইয়াবা বড়ি, ৪৮ কেজি গাঁজা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮৪ জনকে গ্রেফতার এবং অপহরণ ও মানব পাচারের শিকার হওয়া ৭ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।