
পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৬

গ্রেফতার মোসলেহ উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও চুমু দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং ২ এর বিচারক ওমর হায়দার এই আদেশ দেন।
মামলার বাদী পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরো জানান, আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে আমরা বলেছি আসামি এখন জামিনে বের হয়ে গেলে তদন্ত কাজে বিভিন্ন ঘটবে। সমাজে এক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামের জামিন আবেদন নাকচ করেন।
এ মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।
আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, আমরা এ মামলার আসামিপক্ষের জামিন আবেদন করেছি। আমরা আদালতে বলেছি আসামির বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা নেই, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা। এসব কারণে আমরা আসামের জামিন আবেদন করেছিলাম।
এদিকে, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ছয় বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও চুমু দেয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে উভয় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
শিশুটির বাবাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন তথ্য সঠিক নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে জিএমপি ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের শেয়ার করা একটি সংবাদ ও বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়’ ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেয়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে এর বিপরীতে অন্য একটি মোড় নেয় ঘটনাটি।
এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী অভিযোগ করেন, একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
এই পাল্টা মামলার পর শিশুটির বাবাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ভিডিও, মন্তব্য ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে।