
ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫১

মৃত্যুর আগে সর্বশেষ ব্যবসায়িক পার্টনার ও ছোট ভাই দ্বীপের সঙ্গে সৌরিকে দেখা গিয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লে. কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও এলাকার ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন রাতে দ্বীপের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেয়া হয়।
পিবিআইয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ সময় সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু দ্বীপ ও তাহসিফ অনেকটা সময় একসঙ্গে পার করেছেন, সে কারণেই কিছু তথ্য সংগ্রহে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়।’
এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি।
নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেয়া হয়। পরে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পকেটে থাকা আইফোনে একটি কল এলে তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর দ্বীপ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি আবার বাসা থেকে বের হন। এরপর ২৮ অক্টোবর ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে শেষ একটি খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
এদিকে, তাহসিফের বাসার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফ সৌরির বাসার নিচে গ্যারেজে আসেন। সেখানে প্রথমে তিনি মোটরসাইকেলে তার হেলমেটটি রাখেন। এরপর পাশেই নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে চলে আসেন তাহসিফ। পরে দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বাইরে চলে যেতে দেখা যায়।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো তার মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়নি। সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান শনাক্ত করেছেন। আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার কে এম তাহসিফের কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও দেহে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল এবং হাত দুটি মাথার সামনের দিকে বাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন মেলেনি। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক এবং হাতের মুষ্টি খোলা থাকলেও পেট ফোলা ছিল বলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।