
এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হকের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই
শাহ্ অলিদুর রহমান
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯

মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর মহাসড়কের ২১ কিলোমিটারে নির্মাণ করা হবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এন- ২১৫ সড়ক। ছবি: সময় সংবাদ
পর্যটন শহর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং দেশ-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে নতুন সংযোগ সড়ক বা বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হলে এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের যানজট কমার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা যায়, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে নির্মাণ করা হবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এন-২১৫ সড়কটি। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সড়ক বিভাগ বলছে, দেশের চা-শিল্প নগরী আর পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ উপজেলা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই, এ উপজেলায় দেশ-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। অপ্রসস্ত এ পৌর শহরের বুক চিরে যাওয়া ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়টিই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান পথ। তবে দীর্ঘদিনেও এ শহরে স্থানীয় কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় মূলসড়ক দখল করেই সড়কের ওপরই গড়ে উঠেছে দূরপাল্লার বাস, টমটম ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এতে চা-শিল্প আর পর্যটন সমৃদ্ধ এ শহরে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।
অন্যদিকে যানজটে নাকাল শহরবাসী; একইভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে, স্থবিরতা। সেইসঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতও হয়ে উঠেছে দুর্ভোগপূর্ণ। দীর্ঘদিনের এ যানজট নিরসন এবং পর্যটকদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে নতুন সংযোগ সড়ক বা বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এতে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর মহাসড়কের ২১ কিলোমিটারে নির্মাণ করা হবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এন-২১৫ সড়কটি। এরইমধ্যে এ প্রকল্পটি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে, প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কের সকিনা সিএনজি পাম্প থেকে ভাড়াউড়াছড়া পর্যন্ত তিন দশমিক দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ। আবার একইভাবে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে, ভাড়াউড়াছড়া থেকে মৌলভীবাজার- শ্রীমঙ্গল রোডে কারিতাস ট্রেনিং সেন্টার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়ক। পাশাপাশি ১১৬ মিটার লম্বায় আটটি সেতু এবং ঊনচল্লিশ মিটার লম্বায় আরও আটটি কালভার্ট নির্মিত হবে।
এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এ জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ২১৭ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তবে সড়ক বিভাগ বলছে, শহরের ওপর গাড়ির চাপ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমবে।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন জানান, যানজট কমে গেলে পর্যটক বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যেও গতি ফিরবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
শ্রীমঙ্গলের যানজট গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত একটি বিষয় বলে জানালেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
তিনি জানান, বাইপাস হলেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসবে।
মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনুমোদন পাওয়ার পরপরই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে আগামী দু’বছরের মধ্যে এ কাজটি দৃশ্যমান হওয়ার কথা জানান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, শ্রীমঙ্গলের ৭ কিলোমিটার নতুন সংযোগ সড়ক বা বাইপাস নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা।