
জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে যাচ্ছে ডিসি ফরিদার ‘ক্লিন স্কুল টিম’

নাহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আফসানা খাতুন এবং দুই মেয়ে ইনায়া ও ইহানার জীবনটা এ ছবিতেই যেন শেষ হলো তাদের পথচলা।
কক্সবাজারের ইনানী টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার যশোরের মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায় গ্রামে। স্বজনদের দাবি অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর কারণে আজ তাজা প্রাণ ঝরে গেল। অবিলম্বে অবৈধ রিসোর্ট বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পূজার ছুটি পেয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজার ঘুরতে যান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আফসানা খাতুন এবং দুই মেয়ে ইনায়া ও ইহানা। ১৬ অক্টোবর তারা ওই রিসোর্টে ওঠেন এবং ১৮ অক্টোবর দুপুরে চেকআউট করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গত ১৭ অক্টোবর ভোরে রিসোর্টটিতে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা যান এই চারজনসহ মোট ১০ জন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ টেস্টের কারণে মরদেহ শনাক্তকরণে সময় লেগে যায়। গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধভার ভোরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছানোর পর এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো গ্রাম জুড়ে এখন শোকের মাতম।
নাহিদের চাচাতো ভাই খালিদুর রহমান বলেন, ‘আমি টেকনাফে থাকি। গত ১৬ অক্টোবর নাহিদ ভাই আমাকে কল দিয়ে জানান সে রিসোর্টে উঠেছেন। কিন্তু পরের দিন সকাল থেকে তার নম্বরটা বন্ধ পাই। পরে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ওদের খুঁজে পায়নি। ১৮ অক্টোবর জানানো হয় যে চার জনের লাশ পাওয়া গিয়েছে, যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। এরপর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে লাশ শনাক্ত হয়। আজ ভোরে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আমাদের পুরো পরিবার শোকাহত।’
নিহতের ফুফাতে ভাই আব্দুস সালাম জানান, নাহিদ পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। তাদের নির্মম মৃত্যুতে বলার কোনো ভাষা নেই।
নিহতের বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার দুটি ছেলে। তার মধ্যে ছোট ছেলের পুরো পরিবার আজ মারা গেল। একে আমি দুর্ঘটনা বলবো না। অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর কারণে আজ আমার পরিবারের তাজা প্রাণ ঝরে গেল। এই যে রিসোর্টগুলো অস্থায়ীভাবে কাঠের তৈরি। সরকারের কাছে আবেদন, এই সমস্ত রিসোর্ট যেন না থাকে, না থাকে।’
নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ শেওড়াপাড়ায় থাকতেন।