
পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইকরামুল কবির
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৮

সিলেটে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই, অর্ধেক ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দ পাওয়ারা। ছবি: সময় সংবাদ
সিলেটে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে নেয়া সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা। অনেক ঘর বিক্রি করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ সরকারি বরাদ্দের ঘর ভেঙে ইচ্ছে মতো নতুন স্থাপনা নির্মাণও করছেন। এদিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বন্ধ ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে নতুনদের নামে।
একসময় যাদের ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই, তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। উদ্দেশ্য ছিল, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো পাবে স্থায়ী আশ্রয়, ফিরে পাবে নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। কিন্তু সিলেটের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরাদ্দ পাওয়া অনেক ঘরেই নেই বাসিন্দা। কোথাও ঘর পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
সিলেট সদর উপজেলার ধনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২৫৭ পরিবার থাকার কথা সেখানে প্রায় একশো ঘরে তালা ঝুলছে। আবার কেউ নিজের মতো করে সরকারি ঘর ভেঙে নিজের মতো করে তৈরি করেছেন। ঘর তৈরিকারী একজন জানান, অনুমতি আছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট সদর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ সময় সংবাদকে জানান, ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণের খবর পেয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। পূর্বের অবস্থায় সেটি নির্মাণের নির্দেশ দেয়াও হয়েছে তাদের।
সিলেট সদর উপজেলার ধনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প উপকারভোগী সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম আলী জানান, ২৫৭ ঘরের মধ্যে একশো ঘর তালাবন্ধ আছে। অনেকগুলো বিক্রিও হয়ে গেছে।
সিলেট গোয়াইনঘাট উপজেলায় একশ ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা নোয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে নেই অর্ধেক বসতিও। আবার অনেক ঘর হাতবদল হয়ে গেছে টাকার বিনিময়ে। সরেজমিনে গিয়ে এমন সত্যতাও পাওয়া যায়।
গোয়াইনঘাট নওয়াগাঁও আশ্রায়ণ প্রকল্প উপকারভোগী সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল হোসেন জানান, নোয়াগাঁও গ্রামে বাবার জমিজমা আছে, ছেলে ঘর পেয়েছেন এমন অনেকে আছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নোয়াগাঁও প্রকল্পে ঘর পাওয়া অনেকের রয়েছে স্থায়ী ঠিকানা ও ঘর। প্রকল্পের কাছে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় সেইসব ব্যক্তিদেরও।
আরও করুণ চিত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুনামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। ২৯ ঘরের মধ্যে অধিকাংশ খালি পড়ে রয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মনোনয়নের কারণে বাড়ি-ঘর আছে এমন ব্যক্তিরা পেয়েছেন সেগুলো। তাই ঘরগুলো খালি পড়ে আছে। রাতে খালি ঘরগুলোতে চলে নানা অপকর্ম।
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্ধ থাকা ঘরগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের নামে বরাদ্দ দেয়া হবে।
জানা যা, সিলেটের জেলার ১৩টি উপজেলায় পাঁচ হাজার ৯১৫ জনের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।