
দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ২১ আগ্নেয়াস্ত্র, ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭

এআই ছবি
রাজধানীর মিরপুর থেকে অপহরণের ১৮দিন পর উদ্ধার হয়েছে ছয় বছরের শিশু বায়জিদ। অপহরণকারী চক্রের উদ্দেশ্য ছিল শিশুটিকে নিঃসন্তান কোনো দম্পতির কাছে বিক্রি করা। তবে বয়স বেশি হওয়ার বিক্রি করা সম্ভব হয়নি তাকে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪ (এসআরবি) এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয় শিশু বায়জিদ। পরিবারের সদস্যরা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার সন্ধান পায়নি। অভিযোগ পেয়ে ছায়া তদন্তে নামে এসআরবি-৪।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজধানী মিরপুরের দুয়ারীপাড়া এলাকায় শিশু বায়জিদকে এক নারীর সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। ওই নারীর নাম নাসরিন। দুপুর দেড়টায় শিশুটিকে নিয়ে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের ফেয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে প্রবেশ করেন তিনি। সেদিন রাতে শিশু বায়জিদকে দেখা যায় আরও এক নারীর সঙ্গে। এই নারীর নাম লিপি।
একে একে ১৩৫টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা হয় অপহরণকারীদের। ময়মনসিংহ, টঙ্গি ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৪। এক পর্যায়ে আজ দুপুরে টঙ্গী থেকে শিশু বায়জিদকে উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক জানান, অপহরণকারীর উদ্দেশ্য ছিল শিশুটিকে নিঃসন্তান কোনো দম্পতির কাছে বিক্রি করা। বয়স বেশি হওয়ায় তাকে বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের খবর পেয়ে বায়জিদকে টঙ্গীর একটি সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
তিনি আরও জানান, টহল পুলিশ শিশুটিকে পেয়ে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তান্তর করে। পরে সেখান থেকে এসআরবি তাকে উদ্ধার করে।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে শিশু অপহরণকারী চক্রের সন্ধান পায়া গেছে। এর আগেও অপহরণ করা এক শিশুকে নিজের সন্তান বলে ১৭ হাজার টাকায় লিপির কাছে বিক্রি করেছিলেন নাসরিন। লিপি সেই শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেয়।’
এ ঘটনায় জড়িত নাসরিন এবং লিপিকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক।