
গুপ্তরা ফ্যামিলি কার্ডে ভুল তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৯

চুয়েটে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা এবং তালাবদ্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন উপাচার্য। নিচে শিক্ষকদের প্রতিবাদী মিছিলের দৃশ্য। ছবি: সময় সংবাদ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। একই দিনে ক্যাম্পাসে আসার পথে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। অনলাইনে যোগদানের ১৮ দিন পর প্রথমবারের মতো তিনি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এছাড়া তারা উপাচার্য ভবনেও তালা লাগিয়ে দেন।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুল বলেন, নতুন উপাচার্যকে আমরা বারোটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। এর মধ্যে তিনি বের হলে আমরা তাকে সসম্মানে বিদায় দিতাম। তবে আল্টিমেটাম দেয়ার পরও যেহেতু তিনি বের হননি তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমরা বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।
আরেক শিক্ষার্থী একই বিভাগের মাহতাব চৌধুরী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ক্যাম্পাসের সর্বস্তরের দাবিকে চরমভাবে উপেক্ষা করে এবং আমাদের সঙ্গে রীতিমতো বেঈমানি করে তথাকথিত উপাচার্য শরিফুল আলম তার রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ভিসি ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশ করেছে। ভিসি বিল্ডিং ত্যাগ করার দুপুর ১২টার আল্টিমেটাম অমান্য করে তিনি ও তার সহযোগীরা ভেতরে অবস্থান করায় আমরা ভিসি ভবন তালাবদ্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছি। অবিলম্বে আমাদের একদফা দাবি মেনে নিয়ে সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত ভিসি ভবন এভাবেই তালাবদ্ধ থাকবে।
এদিকে, এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী একটি বাস অবরুদ্ধ করার খবর পাওয়া যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী আমিরুল কুদ্দুস চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন। পথে মদুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে তিনি নিচে নামেন। এ সময় কাউকে ফোন করার জন্য মোবাইল বের করলে একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। পরে তাকে হেনস্তা করা হয়, জামাকাপড় ধরে টানাটানি এবং চুল ধরে টেনে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে সেখান থেকে তুলে নেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
তিনি আরও জানান, তাকে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তকমা দিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
শিক্ষার্থীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। এর প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টায় তারা এক মৌন মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আসেন।
সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সমাবেশে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘আমরা আজ এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর মদুনাঘাটে ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তিন সমিতির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে এদিন বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গেল ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে তার স্থলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।