
সকাল ৯টার মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫২

মো. তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, তার রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা দল দুটির অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আটক ও রিমান্ডে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মো. তারেক।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জামাত এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছেন যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁফাচ্ছে জিহবাটা বের করে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সাথে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’
২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেয়া অনেক সহযোদ্ধাকে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মো. তারেক। তিনি বলেন, রাজনীতিতে সময় দেয়া অনেককে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চলতে হয়। আমিও এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে চলেছি কিছু দিন। কি করব, তখন না পারছিলাম কর্মে ফিরতে; না পারছিলাম আন্দোলন ছেড়ে দিতে। প্রবাসী ভাইদের দেয়া অর্থে আমি খেয়েছি, গাড়ি ভাড়া দিয়েছি, বাসা ভাড়াও দিয়েছি।
তবে ওই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে নিজে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাকে অনেক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে ফল ও মধুর ব্যবসাও করেছি।
নিজের খাবার ও বাসা ভাড়ার খরচ জোগাড় করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, এটা যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে আর কি করার আছে।
আন্দোলনে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে মো. তারেক বলেন, সুযোগ কম পেলেও যখনই সুযোগ পেয়েছি, আল্লার হাতে জান সঁপে দিয়ে মুক্তির লড়াইয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালের লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের লিফলেট তৈরির কাজ নিজের হাতে করেছি।
পোস্টে নিজের আটক ও গুমের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মো. তারেক। তার দাবি, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে গুমের শিকার হন। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি এবং ২২ জুলাই ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথাও পোস্টে জানান। তিনি বলেন, এগুলোই কিছুটা মনে পরে, আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ পাই নাই।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের। জুলাই-পরবর্তী সময়ে অনেকে বয়ান দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা আর বলা যাবে না। আমি বলেছি, মুক্তিযুদ্ধই ছিল সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় লড়াই।
‘১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। সব বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার পর তারা ভারতের কাছে গেছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। ভারতও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে।’
‘এরপর ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, জামায়াতের আমির গোপনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ধরা পড়ার পর জামায়াতের আমির তা স্বীকার করেন। এবার ভারতের ‘র’-এর সঙ্গে নতুন করে বসছেন গোলাম পরওয়ার। ধরা পড়ে তিনি আমতা আমতা করছেন। সরকারের আট মাসও হয়নি, অথচ ক্ষমতার জন্য শকুনের দল অস্থির হয়ে গেছে। বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে, আল্লাহর ওয়াস্তে তার বিষয়ে বারবার খোঁজখবর নেবেন।’
আর এসব হয়রানিতে তিনি একদমই বিচলিত নন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজ একটি দাবি জানাতে চাই-জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাগারে থাকলে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে আদালত যেন তাকে জামিন দেন। পরবর্তী সময়ে জামিনে থাকা অবস্থায় তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেফতার করা হবে। জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর এটাই একমাত্র উপায়।
সবশেষে, বাংলাদেশপন্থী দল, যাদের বিদেশে কোনো শাখা নেই, জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আর আমাকে নিজের সঙ্গে রাখার জন্য ভালোবাসা জানাই আমার প্রধানমন্ত্রীকে।