
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের আগুনে পুড়ল ১৫টি বসতঘর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৩৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। ছবি: সময় সংবাদ
ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার যে বীজ রোপিত হয়েছিল, তার অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তার ভাষা আন্দোলনের ডাকই ছিল স্বাধীনতার সূতিকাগার। অথচ জাতীয় জীবনে এই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তার স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে আলোচনা ও সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বনিক।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জামাল, অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. অরুনাভ পোদ্দার, প্রদ্যুৎ নাগ, শামীমী সিকদার দীনা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই নেতৃত্ব দেননি, বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির পথও দেখিয়েছেন। তার জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’
তার নামে স্মৃতিচিহ্ন, পাঠাগার ও গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনেরও দাবি জানান তারা।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ও ভাষাসংগ্রামী। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তার সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নতুন গতি পায়। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে তিনি শহীদ হন।