
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩

ফাইল ছবি
গাজীপুরে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এমন দাবি জানান তারা।
প্রকল্পের অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ক্রুটি কিংবা অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবিও জানান বক্তারা।
অন্যদিকে বৈঠকে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, অপরিকল্পিতভাবে এ প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে করলে মানুষ উপকার পেত।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, বিআরটির পরিবর্তে গাজীপুরের জনগণকে কী দেওয়া হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক এ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং এর পেছনের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান। ফোরামের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকায় যানজট এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাতিল করে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ৩+৩ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাদের নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর অবশেষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ৬ লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’-এর ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। সড়কের মাঝখানে দুটো আলাদা লেনে বিশেষ বাস চালানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল সওজ, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ধরা হলেও তিন দফা সংশোধনে তা বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। গত ১৪ বছরে প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বিশেষ বাস চালু করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে এটি বাতিল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের প্রতিবেদনে পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ নামের আরেকটি সংগঠন।