
মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফারুক ভূঁইয়া রবিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩
আলোচিত বিআরটি প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। ছবি: সময় সংবাদ
আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। তবে প্রকল্পের অধিকাংশ অবকাঠামো অক্ষত রাখা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যানজট কমিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ভেঙে ফেলা হতে পারে বিআরটি স্টেশনসহ কিছু স্থাপনা। এ জন্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি খরচের পরও কাঙ্ক্ষিত বাসসেবা চালু না হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৪ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। আসেনি বিশেষায়িত বাসও। ফলে অধরাই থেকে গেছে বিআরটি বাসসেবা চালুর স্বপ্ন।
প্রকল্পের কাজ চলাকালে গাজীপুর ও উত্তরার যাত্রীদের পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বর্তমানে বিআরটি লেনে চলছে সাধারণ যানবাহন। অন্যদিকে, ব্যবহার না হওয়া স্টেশনগুলোতে দেখা যায় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড, কোথাও কোথাও সেগুলো হয়ে উঠেছে ভাসমান মানুষের আশ্রয়স্থল।
বিআরটি স্টেশনের কারণে সড়কের কিছু অংশ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানজটও তৈরি হচ্ছে। ছুটির দিনেও স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের জটলা দেখা যায়। উড়ালপথের নিচেও কোথাও কোথাও সড়ক সরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশে বাস-ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ—সব মিলিয়ে বিআরটি প্রকল্প হয়ে উঠেছিল বহুল আলোচিত এক ব্যর্থতার উদাহরণ। এবার সেই প্রকল্পই বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রকল্প বাতিল হলেও এর অধিকাংশ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রায় ৯৬ শতাংশ অবকাঠামো অক্ষত রেখে শুধু বিআরটি স্টেশনসহ কিছু আনুষঙ্গিক স্থাপনা ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।
বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ‘প্রকল্প যা রয়েছে, তার ৯৬ শতাংশ অবকাঠামো অক্ষুণ্ন থাকবে। যারা দূরপাল্লায় দ্রুতগতিতে যেতে চায়, তারা মাঝের সড়কটি ব্যবহার করছে। এখনো হুবহু এটাই থাকবে। কিন্তু বিআরটি প্রকল্পের সঙ্গে যেখানে স্টেশন করা হয়েছিল, সেখানে এখন যানজটের উৎস হয়ে রয়েছে। সেই স্টেশনগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। ভাঙলে যানবাহন আরও দ্রুতগতিতে যেতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে নিরাপদে যাওয়ার জন্য কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) যতটুকু প্রাক্কলন করেছে, তার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা খরচে করা স্টেশনগুলো ভাঙতে ৪৫ কোটি টাকা লাগবে। আর ব্যারিয়ার দিয়ে গাড়ি দ্রুতগতিতে চালানোর জন্য আরও ২৭ কোটি টাকা লাগবে। সব মিলিয়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭২ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বিআরটি প্রকল্পটা চলমান থাকলে ৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হতো।’
প্রকল্প বাতিলের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে বছরের পর বছর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অথচ এত অর্থ ব্যয়ের পরও যে বাসসেবা চালুর কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত চালুই হলো না।
সাধারণ মানুষের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০১২ সালে নেয়া প্রায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ প্রকল্পটির মেয়াদ ৫ দফা বাড়িয়েও কাজ শেষ করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি ধরা হলেও প্রকল্পের সবশেষ প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়ায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি খরচের পর বাতিল হলো প্রকল্পটি।