
এআইইউবিতে চতুর্থ আইসিসিএ শুরু
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৪

অবশেষে ছয়জন সদস্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের ডাকা সিন্ডিকেট সভার। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টায় অনলাইনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, চুয়েটের সিন্ডিকেটে মোট ১৭ জন সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে সহ-উপাচার্যের পদটি শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সভায় অংশ নেন ছয়জন। এদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (টিএসসি) ও বিটিবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান। তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন না চুয়েটের কেউ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান জানান, তিনি এ সভায় অংশ নিয়েছেন। সভায় চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য অংশ নেননি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে চুয়েটের ৭ জন সিন্ডিকেট সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দুইজন ব্যতীত কাউকে পাওয়া যায়নি।
দুই সদস্যের মধ্যে চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুল হাসান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, 'আমি পরিবার নিয়ে ছুটিতে আছি। তাই সভায় যোগ দেয়নি।'
আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, 'আমার মা অসুস্থ থাকায় সভায় অংশ নিতে পারিনি।'
এদিকে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সিন্ডিকেট সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালুর আহ্বান: সিন্ডিকেটের প্রথম সিদ্ধান্তে চলমান অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য সেশনজটের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্রুত নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ: দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠনের সুপারিশ: তৃতীয় সিদ্ধান্তে চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম টেকসইভাবে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত বা পরামর্শক কমিটি গঠনের জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকটের গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রস্তাব দেবে।
এর আগে সোমবার উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ হন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাঁকে সেখান থেকে বের করে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে যান। সেখান থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন।