
পঞ্চগড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রুখতে এবং কর্মক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকারের দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত শিক্ষাবিদের।
চলতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে পর্যাপ্ত আসন থাকলেও উন্মুক্ত আসনের বড় একটি অংশই ফাঁকা পড়ে থাকবে। বিপরীতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসন বাগিয়ে নিতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেবে তীব্র প্রতিযোগিতা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, উচ্চশিক্ষার চেয়ে দেশের জন্য এখন বেশি প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি, তাই কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপরই জোর দেয়া উচিত।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষায় মোট আসন সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে ৬৩ হাজার ৬৫৬, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫৫, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ১১ হাজার। দেখা যাচ্ছে– এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখের মতো আসন ফাঁকা থেকে যাবে। ফলে উচ্চশিক্ষায় সামগ্রিক আসনের কোনো ঘাটতি না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মূল লড়াইটি হবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের হাতে গোনা কয়েকটি আসনের দখল পাওয়ার জন্য।
দেশে উচ্চশিক্ষার মান এবং আসনবিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা গবেষকরা। তাদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গড়ে উঠলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘অদ্ভুত নিয়ম করা হয়েছে। অলি-গলিতে বিশ্ববিদ্যালয়, জেলায়-জেলায় কলেজ। উচ্চশিক্ষার নামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনার্স-মাস্টার্স করানো হচ্ছে। এগুলো উচ্চশিক্ষার মৌলিক দর্শনের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না।’
এদিকে ইউজিসি জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হলেও গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেয়া হচ্ছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সংকট নেই। তবে যে শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হবে, তারা যেন মানসম্পন্ন শিক্ষা পায় এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে–আমরা সেই ব্যবস্থাই করছি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
শিক্ষাবিদেরা মনে করছেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যে ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের ঝরে পড়া রুখতে এবং কর্মক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকারের দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।