
পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩৭

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা শিগগিরই আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছে। ছবি: সময় নিউজ
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও এ বছরই পাস করার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
কারা পাবে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ?
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ সুযোগ পাবে। তাদের শুধু যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়েই আবার পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ সব বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার তারিখ, ফরম পূরণ ও ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।
এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও এ বছরই পাস করার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
কবে হবে পুনঃপরীক্ষা?
এই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ ডিসেম্বর। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির প্রকাশিত সময়সূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলবে ১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর, চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। আর সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর।
বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নাই। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা পেলেই এই পরীক্ষা নেয়া হবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বিশেষ এই পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ এমন সময়সূচি নির্ধারণ করতে চায়, যাতে শিক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, ফরম পূরণের সময় ও ফি সম্পর্কে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
যারা পুনঃপরীক্ষায়ও পাস করবে না, তাদের কী হবে?
শুধু পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিয়েই বিষয়টি শেষ করতে চায় না সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা এই পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদেরও শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না।
তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগও রয়েছে
এদিকে, যারা মনে করছে তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে কিংবা প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পেয়েছে, তারাও ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল ইতিবাচক হলে আর পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দেয়া নাও লাগতে পারে।
শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে। প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা।
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে।