
দেশের বাজারে কমলো রুপার দামও, ভরি কত?
সেলিয়া সুলাতানা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৯

মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তখন দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে আন্তঃব্যাংক সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া এবং ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল ব্যাংককে সহায়তার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দায়িত্বও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের কারণে যেন মূল্যস্ফীতির চাপ আরও না বাড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে এমনিতেই চাপে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লক্ষ্য, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া এবং ব্যাংকিং সেবা সচল রাখা। তবে এ উদ্যোগের আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টিতে সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নিচ্ছে ব্যাংকটি।
অন্যদিকে, পদ্মা ব্যাংক বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ চলছে। এ ছাড়া ঝুঁকিতে থাকা এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও আইসিবিসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক রয়েছে বিশেষ তদারকিতে।
এসব ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তারল্য সহায়তা দিয়ে ব্যাংকগুলোর সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঋণ আদায়, অনিয়মের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আইনি দায়িত্বের বিষয়টি হলো, আমি আপনার কাছে টাকা রেখেছি, আপনি আমার টাকা ফেরত দেবেন। আর লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক; দুই পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। এসব ব্যাংকের দায়িত্ব সরকারের নেয়া ঠিক হবে না। তবে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংককে লাইসেন্স দিয়েছে সরকারই।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে টাকার সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্বল ব্যাংককে সহায়তা দিতে গিয়ে যেন নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তঃব্যাংক সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তার বিষয়ে কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম কাজ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অতএব, এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। জনগণের ওপর বাড়তি কোনো করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নীতির অংশ নয়।’
এছাড়া তারল্যসংকট, খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ আদায়, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।