
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৬

১৭২৪ সালে নির্মিত যন্তর মন্তর কয়েক দশক আগেই দিল্লির প্রতিবাদ-বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নতুন করে তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। জায়গাগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভের জন্য জায়গাটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে। ফলে দিল্লিতে প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় যন্তর মন্তর।
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপির সঙ্গে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো।
তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় তারা। তবে এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানে সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরে অনেককে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
নজিরবিহিনী দমনপীড়নের মুখেও পিছু হটেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা নেতারা। আটকাবস্থা থেকে মুক্তির পর রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা পিছু হটব না।’
সিজেপির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোরের এক প্রতিবেদন মতে, আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্ট্যান্ডিং অর্ডার নম্বর এল অ্যান্ড ও/৪৮/২০২৬-এর আওতায় নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। আদালত এমন একটি জায়গা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের জন্য শৌচাগার, পানীয় জল ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল ও জরুরি পরিষেবা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেন আদালত।