
মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৮

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় অজিঙ্কা শিন্ডে বর্তমানে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজও দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও একাধিক ছাত্রসংগঠন। রোববার (১১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সিজেপির নেতারা। দলটি বলেছে, ভোট চুরি ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অথবা তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।
সিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, সরকার হয়তো ভেবেছিল ধরপাকড়ের পর আমরা বাড়ি ফিরে যাব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র এই ভয়ই প্রমাণ করে, লড়াইয়ের অর্ধেক আমরা জিতে গেছি।’
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় শিন্ডে বর্তমানে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শনিবার রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু সমাবেশের অনুমতি না থাকায় পুলিশের অভিযানে অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
সিজেপির নেতারা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, শনিবার বেলা ১১টার দিকে দিল্লিতে একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই অভিজিৎ দীপকে ও অন্য নেতাদের সেখান থেকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
দীপকের সঙ্গে ‘অমানবিক’ আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। মহারাষ্ট্রে তার নিজ শহরে শনিবার দাদি মারা গেলেও শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার সুযোগ তাকে দেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ হবে।’
এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক সোমবার বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ওই দিন জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিল বিরোধী জোটটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ; প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল; ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল; সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো বাতিল করা।
শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় কর্মসূচি ঠেকাতে অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তারা হলেন আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থি নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।
সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে অভিজিৎকে ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখা হয়, বাতিল করা হয় ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক নারীদের ও প্রবীণ নাগরিকদের আগেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে রোববারও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি