
‘আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয়া হচ্ছে’, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গ্রেটা থুনবার্গ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পরই সিজেপির নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফের বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির তথা সিজেপির নেতারা। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যারিকেড টপকে জনপ্রিয় প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়ার পর তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্কা শিন্ডে। তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারী দলের প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকও ছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরকে আবারও প্রতিবাদের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন সিজেপির নেতারা।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলতি মাসজুড়েই প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ করছেন সিজেপির সমর্থক ও বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। সমালোচকদের অভিযোগ, এই সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। সেদিন অভিযান চালিয়ে সিজেপির শীর্ষ নেতাসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। এরপরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সিজেপি। এরপর রোববার ও সোমবার আবারও বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজারো মানুষ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
এর পরিবর্তে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নতুন করে তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়। জায়গাগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
তবে পুলিশের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সিজেপির নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী লোহার ফটক ও পুলিশের ব্যারিকেড টপকে সেখানে প্রবেশ করেন। প্রবেশের পরই তাদের আটক করা হয়।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতাকর্মীদের ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এ সময় তারা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়ে দীপকে বলেন, ‘আপনারা প্রতিবাদকে তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে বাতিল করলেই আন্দোলন থেমে যাবে—এমন ধারণা ভুল। বরং এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন ‘যন্তর মন্তর’ গড়ে উঠবে।
গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন সিজেপি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মোদি ও বিজেপির জন্য দলটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।