
দুই মাস পর ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠাচ্ছে নেপাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩০

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার হুমকির মুখেই রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে রোববার (২৫ অক্টোবর) সেই ঘোষণার পরপরই রাজধানী রিয়াদে ফের একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে করে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত যৌথ সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির ওপর একের পর এক ভয়াবহ ও কৌশলগত হামলা চালিয়েই যাচ্ছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অবসান ঘটিয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে হুতিরা। এতে নতুন করে অঞ্চলজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে।
হুমকির মধ্যেই টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রোববার রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ফ্লাইট রাডার’-এর তথ্যানুযায়ী, রোববার ভোরের দিকে একটি বিমান বিমানবন্দরটি থেকে উড্ডয়ন করে।
এর আগে চলতি মাসেই বিমানবন্দরে পরিচালিত এক রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩ শতাধিক মানুষ আহত হন। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে এটিই সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
তবে বিমানবন্দর ফের চালুর ঘোষণার পর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে। তিনি কিং খালিদ বিমানবন্দরকে এখনও 'অনিরাপদ' এবং তাদের বাহিনীর জন্য একটি 'সামরিক লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারে বলেন, 'দেশি-বিদেশি সব এয়ারলাইন্স, বিমানকর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। এটি এখন আর নিরাপদ নয়। এরপর বিমানবন্দর চালু রেখে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার পূর্ণ দায় সৌদি প্রশাসনকেই নিতে হবে।'
এএফপির একজন প্রতিনিধি জানান, রোববার ভোরের দিকে শহরটিতে পর পর তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। হামলা চলাকালে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জরুরি মোবাইল অ্যালার্ট বার্তা পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন।
সৌদি জোট অবশ্য দাবি করেছে, তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি সামরিক ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, পাইপলাইন এবং একটি বিমান ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।
অন্যদিকে সৌদির সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে এসে পড়ে। তবে পবিত্র দুই শহর লক্ষ্য করে হামলার এই দাবিকে 'পাহাড়সম মিথ্যাচার' বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি গোষ্ঠী।
এর বাইরেও ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে সৌদি বাহিনীর একটি নৌঘাঁটি ও সামরিক ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। গত মাসে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির তীব্র আক্রমণ এশিয়ার জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
সৌদি আরব বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ। প্রতিনিয়ত হুতিদের এই আক্রমণ দেশটির বিমান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।