
ইসরাইলে নির্বাচন: ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল কখন পাওয়া যাবে

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গিভাত হাভিভাতে এক সম্মেলনে ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং রাআম পার্টির প্রধান ও নেসেট সদস্য মানসুর আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের পরবর্তী পার্লামেন্টে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেছেন। তার জোট পেয়েছে প্রায় ৫৫টি আসন, আর বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬৫।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান গোলান বলেন, ‘নেতানিয়াহু হেরে গেছেন। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনতে জানি। ৫৫-এর চেয়ে ৬৫ বড়। ইসরাইলের গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে। এটাই চূড়ান্ত।’
আসনসংখ্যার হিসাবের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোকেও বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। পোস্টে গোলান আরও লেখেন, ‘ভয় পাওয়া বন্ধ না করলে এখানে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই... ইহুদি ভোট ও আরব ভোটের মধ্যে নেতানিয়াহু যে বর্ণবাদী বিভাজন তৈরি করেছেন, তা আর মেনে নেয়া যাবে না। তাইবেহতে ভোট দেয়া একজন ইসরাইলি নাগরিকের ভোটের মূল্য একইভাবে গিভাত শমুয়েলে ভোট দেয়া একজন ইসরাইলি নাগরিকের ভোটের সমান।’
রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন নিয়ে বিরোধী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে উল্লেখ করে গোলান বলেন, ‘ইসরাইলের আরব নাগরিকদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিবর্তনের সরকার গঠনের দায়িত্ব ও সুযোগ তার জোটের রয়েছে।
গোলান দাবি করেন, বিরোধীরা জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উচিত শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মতো অ-জায়নবাদী অতি-রক্ষণশীল (হারেদি) দলগুলোর ১৬টি আসন বাদ দিয়ে হিসাব করা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার কট্টর ডানপন্থি ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি দল পেতে পারে ৪৮টি আসন। দুই নেতাই জানিয়েছেন, তারা সরকার গঠনের জন্য জোট গঠনের চেষ্টা করবেন।
এবারের ইসরাইলের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। তারা রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সব দলই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের দেয়া ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট এখনো গণনা করা হয়নি। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।