
৩৩ বছর আগে প্রয়াত চিন্ময়ানন্দের ‘হলোবটের’ কাছে আশীর্বাদ চাইলেন মোদি!
মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বাবু, ফ্রান্স
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫৮

ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারী। ছবি: সময় সংবাদ
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয়-বৈষম্য এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাজপথে নামেন তারা। প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। দিনভর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চললেও শেষদিকে প্যারিস, মার্সেই ও লিঁও শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও আয় না বাড়ার অভিযোগে বিক্ষোভে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার প্যারিসে মিছিলের সময় তাদের হাতে ছিল দ্রব্যমূল্য কমানো, বেতন বাড়ানো এবং স্বাধীনতা ও সমতার দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটির দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকটও আন্দোলনের অন্যতম কারণ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে শয্যা কমানো হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা নেয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তরুণদের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘ফ্রান্সে স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব কবে বাস্তবায়িত হবে? বাস্তবে এই মূলনীতিগুলো কেবল কথার কথা। কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে হয়তো আমরা ক্ষণিকের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। কিন্তু আমরা চাই, প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যেন সত্যিকারের স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি একজন নার্স। বছরের পর বছর ধরে আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে শয্যা কমিয়ে নেয়া হচ্ছে, চিকিৎসার সুযোগ কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এখন আমাদের কেবল বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
দিনের অধিকাংশ সময় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষদিকে প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান কয়েকজন বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। এ সময় গাড়ির শোরুমের কাচ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
মার্সেই ও লিঁও শহরেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লিঁওতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনায় হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, প্রকৃত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল এর দ্বিগুণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করা হয়।