আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৪
প্রায় ৬ ইঞ্চি লম্বা সাপটি গ্রামের একটি মাঠে পাওয়া যায়। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ভারতের গুজরাটের দাহোদ জেলায় উদ্ধার হয়েছে বিরল আকৃতির একটি সাপ। প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা সাপটির একটি শরীর, কিন্তু মাথা দুটি। প্রতিটি মাথায় রয়েছে আলাদা এক জোড়া চোখ। বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীরা এটিকে একটি বিষহীন ‘উলফ স্নেক’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাহোদ জেলার ধানপুর তালুকের আগাসওয়ানি গ্রামের একটি মাঠে স্থানীয়রা সাপটিকে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দাহোদ প্রকৃতি মিত্র মণ্ডল’-এর সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে সংগঠনটির সদস্যরা সাপটিকে উদ্ধার করে দাহোদে নিয়ে যান। সেখানে সেটিকে পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, সাপটির শরীরের সঙ্গে দুটি স্বতন্ত্র মাথা যুক্ত রয়েছে। দুই মাথাতেই আলাদা চোখ রয়েছে। প্রাণীটির এমন শারীরিক গঠনকে ‘বাইসেফালি’ (Bicephaly) বলা হয়। এটি একটি বিরল বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতা, যেখানে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের সময় একটি শরীরে দুটি মাথা তৈরি হয়।
সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপের মধ্যে এমন ঘটনা নথিভুক্ত হলেও এটি অত্যন্ত বিরল। উদ্ধারকারীদের দাবি, গুজরাটে দুই মাথার সাপ উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এর আগে এ ধরনের হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কোবরা ও তিনটি উলফ স্নেকের ঘটনা রয়েছে।
উদ্ধার করা সাপটির বয়স আনুমানিক এক বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখার চেষ্টা করছেন।
দুই মাথার প্রাণীর জন্য বন্য পরিবেশে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। কারণ, দুটি মাথা খাবার, চলাফেরা কিংবা বিপদের প্রতি আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। ফলে অনেক সময় তাদের আচরণের মধ্যে সমন্বয়ের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে খাবার সংগ্রহ, চলাফেরা এবং শিকারির হাত থেকে পালানোর মতো বিষয়গুলোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে এমন শারীরিক অস্বাভাবিকতা প্রাণীটির বন্য পরিবেশে টিকে থাকার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ঠিক কত দিন বা কতটা সময় এ ধরনের প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে, তা প্রাণীটির শারীরিক গঠন ও অস্বাভাবিকতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।